নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু খুন

অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় রিয়াদ নামে ৭ বছরের এক শিশুকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ একটি ডোবা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। বুধবার (৫ মে) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির মাদবর বাজার এলাকা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু খুন
ছবিঃ সংগৃহীত

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশু রিয়াদ। পরে ২৮ এপ্রিল একটি মোবাইল নম্বর থেকে রিয়াদের বাবার কাছে ফোন করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রিয়াদের বাবা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এবং রিয়াদের বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল এবং উপপরিদর্শক শওকত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুজন শিশু রিয়াদকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং লাশের সন্ধান দেয়। শিশু রিয়াদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশ জানায়, ২৪ এপ্রিল শিশু রিয়াদকে অপহরণ করে ওই রাতেই তাকে হত্যার পর লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে জালকুড়ি এলাকার বিলে একটি ডোবায় পানিতে ভাসমান জঙ্গলের নিচে লুকিয়ে রাখে সুজন।

শিশু রিয়াদের বাবা রাজু বলেন, নিখোঁজের দিন বিকেলে আমার ভায়রা সুজন আমার দুই ছেলেকে দোকান থেকে কেক কিনে দেওয়ার জন্য নিয়ে যায়। পরে আমার দুই ছেলে কেক নিয়ে বাসায় আসে এবং আমার বড় ছেলে রিয়াদ আবার বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। আমরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে শুরু করি। আমাদের সাথে সুজনও খোঁজ করে। সুজন মাইক ভাড়া করে মাইকিংও করে। পরে অন্য একটি অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আমার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কণ্ঠ শুনেই সুজনকে আমার সন্দেহ হয়। আমি পুলিশকে বিষয়টি জানাই।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দীকি বলেন, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার সাথে জড়িত সুজন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিশু রিয়াদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।