মেহেরপুরে অবৈধ গর্ভপাত: প্রেমিকাকে মৃত্যু শয্যায় রেখে প্রেমিক উধাও !

মেহেরপুরের মেডিপ্যাথ নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রেমিকার অকাল গর্ভপাত ঘটিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রেমিক কামাল হোসেন। গর্ভপাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেই প্রেমিকা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। অকাল ভূমিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হওয়া বাচ্চা উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে গাংনী থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে প্রেমিকবর গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রামের কাঠমিস্ত্রি কামাল হোসেন।

মেহেরপুরে অবৈধ গর্ভপাত: প্রেমিকাকে মৃত্যু শয্যায় রেখে প্রেমিক উধাও !

এদিকে গাংনী থানা পুলিশ সদ্য মৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গাংনী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির রায়হান জানান, গর্ভপাত করার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই নারী এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

অপরদিকে সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, সাত মাসে গর্ভপাত ঘটানোর কারণে ডায়গনস্টিক সেন্টার মেডিপ্যাথকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের অভিযোগ, কামালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কামাল ভুয়া কাবিননামা করিয়ে তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি বিভিন্নস্থানে ঘর ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। এক পর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি কামাল হোসেন জানার পর কৌশলে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে মেহেরপুর শহরের কাটাইখানার সামনে মেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার নামে কৌশলে অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কামাল তাকে ফেলে পালিয়ে যান। কামাল পালিয়ে যাওয়ার পরপরই নিজেদের বাঁচাতে ডায়গনস্টিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে ওই নারীকে মৃত বাচ্চাসহ তাড়িয়ে দেয়।

ওই নারী জানান, একটি কাগজে সই করিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে কামাল হোসেন আমাকে জানিয়েছিল। তার কাছে বারবার বিয়ের মূল কাগজপত্র চাইলেও কৌশলে এড়িয়ে গেছেন কামাল। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গোপনে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্ত্রী হিসেবে পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি চাইলে বারবার এড়িয়ে গেছেন কামাল। বিয়ের কোনো কাগজপত্র তার কাছে না থাকায় কামালের বাড়ি ওঠা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না বলে জানান ওই নারী।

ওই নারীর বোন সাংবাদিকদের জানান, চেকআপ করার কথা বলে আমার বোনকে মেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান কামাল। তিনি আগে থেকেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলে রেখেছিলেন।

এরপর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত সেলিম রেজা গর্ভপাত করার জন্য ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরেই আমার বোনের পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। তখন গর্ভপাত করা হলে আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দিই। কিন্তু বাচ্চাটিকে বাঁচানোর জন্য আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।

এদিকে, নিরূপায় হয়ে প্রেমিকা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কামালের বাড়িতে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার (২৮ মে) মৃত বাচ্চাটি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওই নারীর কাছে থাকা মেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপত্র ও রিপোর্ট রয়েছে। ব্যবস্থাপত্রে নাম রয়েছে ডা. সেলিম রেজা। যিনি প্যারামেডিক এবং বিভিন্ন রোগের অভিজ্ঞ বলে ব্যবস্থাপত্রে দাবি করেছেন। এরকম একজন ব্যক্তি কিভাবে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করছেন আর ব্যবস্থাপত্রে নিজেকে ডা. দাবি করছেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মোবাইলে যোগাযোগ করলে ওই ডায়াগনস্টিকের পরিচালক পরিচয়দানকারী ইমরান হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানাবো। ’

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বাংলানিউজকে বলেন, খোঁজ নিয়ে ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির রায়হান জানান, নবজাতকটির মরদেহ সুরতহাল করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।