মা কেরোসিন ঢেলে স্কুলছাত্রী মেয়েকে পুড়িয়ে মারলো!

গাজীপুরে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর শরীরে তার পাষণ্ড মা কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার ৭ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে নিহতের বাবা। পুলিশ নিহতের মা হেলেনা বেগমকে (৪২) গ্রেফতার করেছে। নিহতের নাম উম্মে হুমায়রা বিজলী (১৭)। সে বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুরপুর এলাকার মো. বজলুর রহমানের মেয়ে।

মা কেরোসিন ঢেলে স্কুলছাত্রী মেয়েকে পুড়িয়ে মারলো!
প্রতীকী ছবি

গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগম বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুরপুর এলাকার মো. হানিফ খানের মেয়ে। 

জিএমপি’র বাসন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাসন থানাধীন চান্দনা গ্রামের বুড়ির মোড় এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন বজলুর রহমান। 

তার বড় মেয়ে উম্মে হুমায়রা বিজলী স্থানীয় গাজীপুর পুলিশ লাইনস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে গত ২১ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজলীকে শাসন করছিলেন তার মা (বজলুর রহমানের স্ত্রী) মোসা. হেলেনা বেগম।

একপর্যায়ে মেয়ে বিজলীর গায়ে কোরোসিন ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন হেলেনা। তার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভান। 
আগুনে বিজলীর শরীরের বিভিন্নস্থান দগ্ধ হয়। 

স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর বুধবার দুপুরে বিজলী মারা যান। এ ব্যাপারে হেলেনার বিরুদ্ধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী (হেলেনার) বজলুর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেন।