গর্ভনিরোধক ওষুধের বিজ্ঞাপনে অন্তঃসত্ত্বা নুসরাত

নুসরাত জাহান নিখিল জৈনের সম্পর্কে মুখ খুললেও একটি বিষয় নিয়ে তিনি এখনও নীরব। দিন পাঁচেক আগে খবর ছড়িয়েছিল, সাংসদ এবং অভিনেত্রী মা হবেন। তিনি আদৌ অন্তঃসত্ত্বা কি না সে সম্পর্কে তিনি একটি কথাও বলেননি। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও জলঘোলার শেষ নেই। সন্তান জন্ম নেওয়ার আগেই এ নিয়ে আলাপ তুঙ্গে। এমন সময়ে একটি বিজ্ঞাপনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। গর্ভনিরোধক ওষুধের প্রচার করছেন গর্ভবতী নুসরাত। তা নিয়েও নতুন জল্পনা নেটিজেনদের মধ্যে। ওই বিজ্ঞাপনের শিরোনাম, ‘হার না মানা’। সেই সমস্ত মহিলাদের গল্প এখানে উঠে এসেছে, যারা সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন নিজেদের স্বার্থে।

গর্ভনিরোধক ওষুধের বিজ্ঞাপনে অন্তঃসত্ত্বা নুসরাত
ফাইল ছবি

বুধবার (৯ জুন) ওই সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসিডর নুসরাত জাহান কারও নাম না নিলেও নিখিলের সমস্ত বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি জারি করেছেন। নিখিলের উদ্দেশে জানিছেন, ‘ধনী’ বলেই একজন একা মহিলাকে যেমন খুশি বলা যায়, তাকে ছোট করা যায়, এ রকম অধিকার কেউ দেয়নি কাউকে। 

নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। নুসরাতের কথায়, ‘এই সাফল্য সম্পূর্ণ আমার নিজের। এই সাফল্যের আলোয় আমি কাউকে আলোকিত হতে দেবো না’।

কতকটা সেই বিজ্ঞাপনের বক্তব্যের মতো, ‘তোমার লড়াই, আমাদের শক্তি’। 

এদিকে কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ায় উত্তাপ নুসরাত-নিখিল-যশকে ঘিরে। ওপার বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ও সাংসদ মা হচ্ছেন এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ছাড়াচ্ছে নানান গুঞ্জন! এমন সময় মুখ খুলেছেন নুসরাত। তিনি বলেছেন, ‘বিয়ে নয়, নিখিলের সঙ্গে আমি সহবাস করেছি। ফলে বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না’।

তুরস্কে তাদের বিয়ে হয়েছিল-সেই প্রসঙ্গ টেনে নুসরাত জানান, তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে এই অনুষ্ঠান অবৈধ। উপরন্তু হিন্দু-মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে করা উচিত। যা এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। ফলত, এটা বিয়েই নয়। বুধবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এভাবেই নিজের যুক্তি তুলে ধরলেন নুসরাত।

লেখিকা তসলিমা নাসরিনও এ বিষয়ে নুসরাতের নীরবতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনও সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি’।

দু’দিন আগে ভারতের আনন্দবাজার ডিজিটালকে নিখিল জানিয়েছিলেন, নুসরতের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘যে দিন জানলাম, নুসরাত আমার সঙ্গে থাকতে চায় না, অন্য কারও সঙ্গে থাকতে চায়, সে দিনই দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছি। নুসরাতের মা হওয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত নিইনি আমি।’ আগামী জুলাই মাসে আদালতে এই মামলার শুনানি হবে বলেও জানিয়েছিলেন নিখিল।