ইরাকে করোনা হাসপাতালে আগুন, বহু হতাহত

হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুনের ঘটনায় ইরাকে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনমাসের মধ্যে দেশটিতে দ্বিতীয় বারের মতো এই ধরনের প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড ঘটলো। সোমবার রাতে নাসিরিয়া শহরের আল-হুসেন হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

ইরাকে করোনা হাসপাতালে আগুন, বহু হতাহত

সোমবার দক্ষিণাঞ্চলীয় নাসিরিয়া শহরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হায়দার আল জামিলি বলেন, ‘কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। হতাহতরা পুড়ে মারা গেছে আর তল্লাশি চলছে।’ তিনি জানান, ‘এখনও ভবনে অনেকে আটকা থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ওয়ার্ডটিতে ৬০ জনের ধারণক্ষমতা রয়েছে।’

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক রোগী এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে দুই স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে উদ্ধারের তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা অগ্নিকাণ্ডের জন্য সর্ট সার্কিটকে দায়ী করলেও বিস্তারিত কিছু জানাচ্ছেন না। আরেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

সোমবার রাতে নাসিরিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-হুসেন করোনাভাইরাস হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণের পর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে ধোঁয়ার কারণে পুড়ে যাওয়া ওয়ার্ডে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-হুসেন হাসপাতালের উপর দিয়ে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-খাদিমি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনায় জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তার কার্যালয়।

এদিকে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আগুন দেওয়া হয়েছে পুলিশের দুইটি গাড়িতে। নিহতদের সারিতে স্বজনের মরদেহ খুঁজতে এক তরুণ বলেন, ‘আগুন এবং নিরীহ রোগীদের হত্যায় দায়ী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আমার বাবার মরদেহ কই?’

উল্লেখ্য, ইরাকের ১৪ লাখেরও বেশি মানুষের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আর ১৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।

সূত্র: :আল জাজিরা