আজ খুশির ঈদ

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল আজহা। ঈদুল আযহা মানে ত্যাগের উৎসব। মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বুধবার (২১ জুলাই)। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সহ সারাদেশে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আযহার নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন। তবে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস।

আজ খুশির ঈদ

আজ বুধবার আরেকটি বিষাদমাখা ঈদই উদযাপন করবে বাংলাদেশ। যে দিনেও গুনতে হবে মৃত্যুর সংখ্যা। তবে সংক্রমণ এড়াতে এবারো সতর্ক অবস্থানে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসেছে গরুর হাট। শুধু ঈদ উপলক্ষে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে পুরো পৃথিবী। প্রায় দেড় বছর যাবৎ বিশ্বজুড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। এই প্রতিকূল সময়ে আবারও এসেছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। আত্মত্যাগ, সেবা, দান এবং মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো এই পবিত্র ঈদ সবার মাঝেই আনন্দের জোয়ার বয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রায় সবার মধ্যেই ঈদ আনন্দের ভাটা পড়েছে। এবার সীমিত আকারে হজ পালন হলেও দেশে ঈদুল আযহা উদযাপনে আছে স্বাস্থ্যবিধি পালনের নির্দেশনা।

ঈদগাহ বা খোলা স্থানে ঈদের জামাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।
প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নিজ পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আঃ) কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হযরত ইব্র্রাহিম (আঃ)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে।

আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এ জন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় বুধবার দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আযহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। তবে এবার করোনার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কোরবানির ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।